ক্রাইরোপ্যাকটিক অ্যাডজাস্টমেন্ট রাজশাহীতেঃ ব্যথা ও মেরুদণ্ডের সমস্যায় নতুন সমাধান

 

ক্রাইরোপ্যাকটিক অ্যাডজাস্টমেন্ট রাজশাহীতেঃ ব্যথা ও মেরুদণ্ডের সমস্যায় নতুন সমাধান এই চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে আজকে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। কোন রকম ঔষুধ ও অস্ত্রপাচার ছাড়াই বিভিন্ন ব্যথা ও মেরুদণ্ডের সমস্যার চিকিৎসায় এই চিকিৎসা পদ্ধতি জনপ্রিয়তা লাভ করছে।
ক্রাইরোপ্যাকটিক-অ্যাডজাস্টমেন্ট-রাজশাহীতে-ব্যথা-ও-মেরুদণ্ডের-সমস্যায়-নতুন-সমাধান
ক্রাইরোপ্যাকটিক অ্যাডজাস্টমেন্ট এমন এক ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে সাধারণত বিভিন্ন ব্যথা ভালো করার জন্য কোন রকম ঔষুধ, অস্ত্রপাচার কিংবা আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ছাড়াই শুধু মাত্র হাতের মাধ্যমে হাড়ের অবস্থান ঠিক করে উক্ত ব্যথার চিকিৎসা প্রদান করা হয়ে থাকে।

ক্রাইরোপ্যাকটিক অ্যাডজাস্টমেন্ট রাজশাহীতেঃ ব্যথা ও মেরুদণ্ডের সমস্যায় নতুন সমাধান

ক্রাইরোপ্যাকটিক অ্যাডজাস্টমেন্ট রাজশাহীতেঃ ব্যথা ও মেরুদণ্ডের সমস্যায় নতুন সমাধান

ক্রাইরোপ্যাকটিক অ্যাডজাস্টমেন্ট রাজশাহীতেঃ ব্যথা ও মেরুদণ্ডের সমস্যায় নতুন সমাধান হিসেবে এই চিকিৎসা পদ্ধতিটি বর্তমানে জনপ্রিয়তা লাভ করছে। আজকে আমরা ক্রাইরোপ্যাকটিক অ্যাডজাস্টমেন্ট এর মাধ্যমে ব্যথা ও মেরুদণ্ডের সমস্যা সমাধান ও রাজশাহীর কোথায় কোথায় এই চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয় এই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো। ক্রাইরোপ্যাকটিক এর মাধ্যমে  ওষুধ বা অস্ত্রোপচার ছাড়াই শরীরের গঠনগত ভারসাম্য ঠিক করে রোগের চিকিৎসা করা হয়ে থাকে। এর আগে বাংলাদেশে ঢাকা সহ অন্যান্য বড় শহর গুলোতেই শুধু ক্রাইরোপ্যাকটিক অ্যাডজাস্টমেন্ট এর চিকিৎসা সেবা দেওয়া হলেও বর্তমানে রাজশাহীতেও ক্রাইরোপ্যাকটিক অ্যাডজাস্টমেন্ট এর চিকিৎসা জনপ্রিয়তা ও সাফল্যের সাথে দিয়ে আসছে কিছু ক্লিনিক ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান। এখন আমরা জানবো রাজশাহীর কোথায় কোথায় এই চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয় এই সম্পর্কে।

  • রিসার্চ ইনস্টিটিউট অফ ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশনঃ রিসার্চ ইনস্টিটিউট অফ ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার হচ্ছে রাজশাহী শহরের জনপ্রিয় একটি ফিজিওথেরাপি সেন্টার। এটি ফিজিওথেরাপি সেন্টার হলেও এখানে ক্রাইরোপ্যাকটিক অ্যাডজাস্টমেন্ট এর চিকিৎসা করা হয়ে থাকে। 
  • ক্রিসেন্ট স্পেশালাইজড সেন্টারঃ ক্রিসেন্ট স্পেশালাইজড সেন্টারও হচ্ছে রাজশাহী শহরের একটি ফিজিওথেরাপি সেন্টার। এই সেন্টারটি খুব একটা জনপ্রিয় না হলেও এখানের চিকিৎসা পদ্ধতি মুটামুটি ভালোই। এখানে ক্রাইরোপ্যাকটিক অ্যাডজাস্টমেন্ট এর মাধ্যমে ওষুধ ও অস্ত্রপাচার ছাড়া বিভিন্ন ব্যথার চিকিৎসা করা হয়ে থাকে।
  • ফিজিও পয়েন্ট, রাজশাহীঃ ফিজিও পয়েন্ট হচ্ছে রাজশাহী শহরের আরোও একটি ফিজিওথেরাপি সেন্টার। যেখানে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ফিজিওথেরাপি সার্ভিস গুলো দেওয়া হয়ে থাকে। এখানে ফিজিওথেরাপির পাশাপাশি ক্রাইরোপ্যাকটিক অ্যাডজাস্টমেন্ট এর চিকিৎসাও করা হয়ে থাকে। 
  • রাজশাহী ইনসাইট হেলথ টেকঃ রাজশাহী ইনসাইট হেলথ টেক হচ্ছে এমন একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান যেখানে ফিজিওথেরাপি, ডায়াগনস্টিক, অপারেশন থিয়েটার ইত্যাদি চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়ে থাকে। এখানে অভিজ্ঞ ডাক্তারের মাধ্যমে চিকিৎসা কাজ গুলো করা হয়ে থাকে ঠিক এই কারণে এই প্রতিষ্ঠানের বেশ সুনাম রয়েছে।
  • পেইন রিলিফ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারঃ পেশী, জয়েন্ট ও স্নায়ুবিক ব্যথা উপশম করার জন্য আপনি যদি কোন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান খুঁজে থাকেন তাহলে এই পেইন রিলিফ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার আপনার জন্য বেস্ট চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হতে পারে। কারণ এখনে ওষুধ ও অস্ত্রপাচার ছাড়াই ফিজিওথেরাপি এবং ক্রাইরোপ্যাকটিক অ্যাডজাস্টমেন্ট এর মাধ্যমে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করা হয়ে থাকে। 

ক্রাইরোপ্যাকটিক থেরাপি কি এবং এটি কিভাবে কাজ করে?

ক্রাইরোপ্যাকটিক চিকিৎসা হলো এমন একটি চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে ওষুধ ও অস্ত্রপাচার ছাড়া সম্পূর্ন প্রাকৃতিক ভাবে মেরুদণ্ড ও স্নায়ুতন্ত্রের ভারসাম্য জনিত সমস্যা গুলো সমাধান করার জন্য মেরুদণ্ড ও জয়েন্টের হালকা চাপ প্রয়োগ করে ব্যথা ও অস্বস্তি উপশম করা হয়। এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে কোন চিকিৎসা যন্ত্র সাধারণত ব্যবহার করা হয় না বরং এই চিকিৎসা করার সময় বেশির ভাব সময় হাতের ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অনেক সময় কারণ বসত মেরুদণ্ড ও বিভিন্ন জয়েন্ট গুলো তাদের সঠিক অবস্থান থেকে সরে যায় যার ফলে উক্ত স্থানে ভীষণ ব্যথা অনুভব হয় এবং স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা করতে সমস্যা হয়ে থাকে। এই ধরনের রোগের চিকিৎসা মূলত ক্রাইরোপ্যাকটিক থেরাপির মাধ্যমে করা হয়ে থাকে।
এই চিকিৎসা করার আগে একজন চিরোপ্র্যাকটর আপনার পিঠ, ঘাড় বা জয়েন্টের অবস্থান, গঠন ও কার্যক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করে সমস্যার মূল কারণ নির্ধারণ করে থাকেন। আপনার রোগের ধরণ ও কত দিন ধরে উক্ত সমস্যায় ভুগছেন এই সকল তথ্য ভালো করে শুনার পর আপনাকে এক্স-রে বা অন্যান্য স্ক্যানিং রিপোর্ট করার পরামর্শ দিতে পারেন। সকল পর্যবেক্ষন পরে চিরোপ্র্যাকটর তার হাতের সাহায্যে  নির্দিষ্ট জয়েন্ট বা মেরুদণ্ডের অংশে সাবধানতার সাথে পরিমাণমত চাপ প্রয়োগ করেন। এর ফলে হাড় ও জয়েন্টের সঠিক অবস্থান ফিরে আসে, চাপে থাকা স্নায়ু গুলো মুক্ত হয়ে যায়, রক্ত সঞ্চালন ও স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। মূলত এই ভাবেই ক্রাইরোপ্যাকটিক চিকিৎসা করা হয়।

ঘাড় ও কোমর ব্যথার জন্য ক্রাইরোপ্যাকটিক চিকিৎসা নেওয়া কি উচিত?

ঘাড় ও কোমর ব্যথার জন্য ক্রাইরোপ্যাকটিক চিকিৎসা নেওয়া আপনার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে এটি সম্পূর্ন নির্ভর করবে আপনার ঘাড় ও কোমর ব্যথার ধরণ, কত দিন ধরে ব্যথা রয়েছে তার উপর। অর্থাৎ আপনার ঘাড় ও কোমর ব্যথা যদি নতুন হয় বা সম্প্রতি অল্প দিন যাবত হয়েছে এমন হলে আপনি ক্রাইরোপ্যাকটিক চিকিৎসা নিতে পারেন। অপর দিকে আপনার ঘাড় ও কোমর ব্যথা দীর্ঘ দিন যাবত হয় এবং ব্যথার মাত্রা যদি এমন হয় যে আক্রান্ত স্থানে হাত দেওয়া যাচ্ছে না এমন হলে আপনার উচিত হবে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া।

এখন আমরা জানবো কিভাবে ক্রাইরোপ্যাকটিক চিকিৎসার মাধ্যমে ঘাড় ও কোমর ব্যথার চিকিৎসা করা হয়। সাধারণত ঘাড় ও কোমর ব্যথার মূল কারণ হয়ে থাকে হাড়ের সামান্য সরে যাওয়া বা যাকে চিকিৎসার ভাষায় বলা হয় হাড় ডিস ব্যালান্স হয়ে যাওয়া। এটিই মূলত ঘাড় ও কোমর ব্যথার মূল কারণ হিসেবে চিকিৎসকরা মনে করে থাকেন। উক্ত ঘাড় ও কোমর ব্যথা ঠিক করার জন্য ডাক্তার সাবধানতার সাথে ব্যথার জায়গায় হাড়ের উপর চাপ দিয়ে সরে যাওয়া হাড়কে আগের জায়গায় নিয়ে আসেন এর ফলে উক্ত জায়গার ব্যথা ভালো হয়ে যায়। এখন এক কথায় বলতে গেলে ঘাড় ও কোমর ব্যথার জন্য ক্রাইরোপ্যাকটিক চিকিৎসা নেওয়া আপনার জন্য উপকারী হলেও আপনার উচিত হবে তাড়াহুড়া করে চিকিৎসা না নিয়ে এর আগে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

ফিজিওথেরাপি ও ক্রাইরোপ্যাকটিকের মধ্যে পার্থক্য জানুন

অনেকে ফিজিওথেরাপি ও ক্রাইরোপ্যাকটিক এই দুই চিকিৎসা পদ্ধতিকে একই মনে করে ভুল করে থাকেন। সাধারণত এই দুই চিকিৎসা পদ্ধতি একই মনে হলেও এদের মধ্যে রয়েছে অনেক পার্থক্য। তাই আজকে আমরা ফিজিওথেরাপি ও ক্রাইরোপ্যাকটিকের মধ্যে পার্থক্য গুলো সম্পর্কে জানবো।
বিষয়ফিজিওথেরাপিক্রাইরোপ্যাকটিক
চিকিৎসাপেশি, জয়েন্ট ও নার্ভের কার্যকারিতা বৃদ্ধিমেরুদণ্ড, জয়েন্ট ও স্নায়ুতন্ত্রের ভারসাম্য পুনঃস্থাপন
চিকিৎসা পদ্ধতিব্যায়াম, স্ট্রেচিং, ম্যাসাজ, হিট বা আইস থেরাপি, ইলেকট্রোথেরাপিম্যানুয়াল অ্যাডজাস্টমেন্ট (হাতের মাধ্যমে জয়েন্ট সেটিং)
চিকিৎসার প্রভাবধীরে ধীরে ব্যথা কমায় ও কার্যক্ষমতা বাড়ায়সাথে সাথে ব্যথা কমাতে সাহায্য করে থাকে
ব্যথার ধরণমাংসপেশি, জয়েন্ট, লিগামেন্ট, টেনডনমেরুদণ্ড, স্নায়ু ও জয়েন্ট
চিকিৎসা যন্ত্রপাতিথেরাপি মেশিন, এক্সারসাইজ বল, ব্যান্ড, আল্ট্রাসাউন্ড ইত্যাদিসাধারণত হাত
রোগের ধরণপ্যারালাইসিস, স্ট্রোক, স্পোর্টস ইনজুরি, আথ্রাইটিস ইত্যাদিকোমর বা ঘাড় ব্যথা, ডিস্ক সমস্যা, সায়াটিকা, হেডেইক ইত্যাদি
চিকিৎসার গতিধীরে ও ধারাবাহিকভাবে উন্নতিরোগের ধরণ অনুযায়ী সাথে সাথে বা কিছুদিন পর থেকে ফলাফল পাওয়া যায়
সময়দীর্ঘমেয়াদি সেশন প্রয়োজনখুব বেশি সেশন লাগেন

প্রথমবার ক্রাইরোপ্যাকটিক থেরাপি নেয়ার আগে করনীয়

ক্রাইরোপ্যাকটিক থেরাপি নেয়ার আগে অবশ্যই কিছু পূর্ববর্তী প্রস্তুতি নিতে হবে। কারণ আপনি যদি আগে থেকেই কিছু প্রস্তুতি নিয়ে না জান তাহলে চিকিৎসার সময় আপনি ঝামেলার সম্মুখীন হতে পারেন। তাই এই অতিরিক্ত ঝামেলার সম্মুখীন না হতে চাইলে অবশ্যই কিছু পূর্ববর্তী প্রস্তুতি নিতে হবে। এখন আমরা প্রথমবার ক্রাইরোপ্যাকটিক থেরাপি নেয়ার আগে করনীয় বিষয় গুলো সম্পর্কে জনবো।
ক্রাইরোপ্যাকটিক-অ্যাডজাস্টমেন্ট-রাজশাহীতে-ব্যথা-ও-মেরুদণ্ডের-সমস্যায়-নতুন-সমাধান
  • আপনার শরীরে কোথায় ব্যথা, কত দিন ধরে, কখন কম অথবা বেশি ব্যথা হয় এগুলো ভালোভাবে মনে করে নেওয়া।
  • পূর্ববর্তী চিকিৎসার এক্স-রে, এমআরআই, প্রেসক্রিপশন বা ডায়াগনসিস রিপোর্ট থাকলে তা সাথে করে নিয়ে যাওয়া।
  • চিকিৎসার সময় ঢিলা পোশাক পরিধান করা যাতে চিকিৎসার সময় নড়াচড়া করতে অসুবিধা না হয়।
  • আপনার রোগের ধরণ অনুযায়ী কতটি সেশনের প্রয়োজন পড়বে, কত দিন লাগবে এবং কত টাকা খরচ হবে এই সকল বিষয় জেনে নিতে হবে।
  • থেরাপি করার দিন ভারি খাবার না খাওয়া ভালো। আপনি চাইলে হালকা খাবার খেতে পারেন অথবা চিকিৎসক যা পরামর্শ দেয় সেটি শুনতে হবে ইত্যাদি।

ক্রাইরোপ্যাকটিক চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো জানুন

সাধারণত ক্রাইরোপ্যাকটিক চিকিৎসা নিরাপদ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন হলেও কিছু ক্ষত্রে সাময়িক কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম কারণ হচ্ছে কেউ প্রথমবার ক্রাইরোপ্যাকটিক চিকিৎসা নিলে তার সাথে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে আবার যারা অনভিজ্ঞ ডাক্তারের কাছে থেকে চিকিৎসা নিলেও কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এখন আমরা ক্রাইরোপ্যাকটিক চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো সম্পর্কে জানবো। তবে বলে রাখা ভালো যে এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো সস্থায়ী কিছু সময়ের জন্য হয়ে থাকে।

  • চিকিৎসার পরে কিছু জায়গায় সাময়িক ব্যথা বা টান অনুভব হতে পারে।
  • ঘাড়ের অ্যাডজাস্টমেন্টের পর অনেক সময় হালকা মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।
  • কিছু রোগী চিকিৎসার পর শরীরে ক্লান্তি বা ঘুমঘুম ভাব অনুভব করতে পারে।
  • অ্যাডজাস্টমেন্টের স্থানগুলোতে সাময়িক লালচে হয়ে যেতে পারে।
  • এই চিকিৎসার পর হালকা মাথা ঘোরা অনুভব করতে পারেন ইত্যাদি।

ক্রাইরোপ্যাকটিক চিকিৎসায় যেসকল সতর্কতা মানতে হয় তা জানুন

বিশেষ করে আপনি যদি প্রথমবার ক্রাইরোপ্যাকটিক চিকিৎসা নেওয়ার কথা ভেবে থাকেন তাহলে আপনাকে অবশ্যই কিছু সতর্কতা মানতে হবে। তা না হলে আপনার যে সমস্যা সেটি ভালো হওয়ার পরিবর্তে আরোও খারাপ হতে পারে। প্রথমে যে সতর্কতা মানতে হবে সেটি হচ্ছে আপনি যে চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা নেওয়ার কথা ভাবছেন সেটি রেজিস্ট্রারড কিনা তা যাচাই করে দেখতে হবে এবং এরপর যে দিকটি লক্ষ্য রাখতে হবে সেটি হচ্ছে উক্ত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ডাক্তার প্রশিক্ষিত কিনা এটি আগে থেকে জেনে নিতে হবে। কেননা বর্তমানে অনেক প্রতারক অর্থের লোভে অপ্রশিক্ষিত ডক্তার দিয়ে এই সকল চিকিৎসা প্রদান করে থাকে যার ফলে আপনার শারীরিক অবস্থা উন্নতি না হয়ে আরোও খাবার হতে পারে।
এরপর যে সতর্কতা মানতে হবে সেটি হচ্ছে আপনার নিজের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি লক্ষ্য রাখতে হবে। আপনার যদি উচ্চ রক্তচাপ, গর্ভাবস্থা, হার্টের সমস্যা অথবা অন্যান্য কোন সমস্যা থেকে থাকে তাহলে সেগুলো ডক্তারকে আগে থেকেই বলে রাখতে হবে। এরপর যে সতর্কতা মানতে হবে সেটি হচ্ছে আপনার সমস্যা যদি একটি জটিল ও দীর্ঘ দিনের হয়ে থাকে এবং ডাক্তার আপনাকে কোন রকম পরিক্ষা যেমন এক্স-রে বা অন্যান্য রিপোর্ট ছাড়া চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকে তাহলে সেই চিকিৎসা না নেওয়া। কেননা অর্থের লোভে অনেক সময় রোগী হারাতে চায় না যার ফলে রিপোর্ট ছাড়া চিকিৎসা বিপজ্জনক জানার পরেও এই ধরনের ভুল সিদ্ধন্ত দিয়ে থাকেন। আপনাকে কোন ডাক্তার এই ধরনের সাজেশন দিলে চিকিৎসা না নেওয়ায় উত্তম। এছাড়াও চিকিৎসার পর ভারি কাজ বা ভারি ব্যয়াম করার মত ভুল কাজ থেকে সতর্ক থাকতে হবে।

ক্রাইরোপ্যাকটিক অ্যাডজাস্টমেন্ট চিকিৎসা নিয়ে কিছু ভুল ধারণা

বিশেষ করে বাংলাদেশের মানুষের মাঝে ক্রাইরোপ্যাকটিক অ্যাডজাস্টমেন্ট চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। আজকে সেই ভুল ধারনা গুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হবে। অনেকেই মনে করেন যে ক্রাইরোপ্যাকটিক অ্যাডজাস্টমেন্ট চিকিৎসা মানেই হচ্ছে এই চিকিৎসা করার সময় হাড় ভাঙ্গা হয়। এই আসলে সম্পূর্ন ভুল ধারণা কেননা এটি একটি সম্পূর্ন নিরাপদ চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে হালকা চাপ দেওয়ার মাধ্যমে মেরুদণ্ড ও জয়েন্টকে সঠিক অবস্থানে ফেরানো হয়। এই সময় হাড় ভাঙ্গার মত হালকা শব্দ শোনা যেতে পারে তবে এটি হাড় ভাঙ্গার শব্দ হয় বরং জয়েন্টের গ্যাস রিলিজের ফলে শব্দটি হয়ে থাকে।
ক্রাইরোপ্যাকটিক-অ্যাডজাস্টমেন্ট-রাজশাহীতে-ব্যথা-ও-মেরুদণ্ডের-সমস্যায়-নতুন-সমাধান
আবার অনেকের মাঝে যে ভুল ধারণাটি আছে সেটি হচ্ছে এই চিকিৎসা করার সময় রোগীর অনেক ব্যথা লাগে। এটি এক দিক থেকে ঠিক আবার এক দিক থেকে ভুল। কারণ হচ্ছে যারা সঠিকভাবে প্রশিক্ষিত চিরোপ্র্যাকটরের মাধ্যমে চিকিৎসা না নিয়ে টাকা বাঁচানোর জন্য অপ্রশিক্ষিত চিরোপ্র্যাকটরের মাধ্যমে চিকিৎসা নিতে যান সাধারণত তাদের সাথে ব্যথা লাগার ঘটনা ঘটতে পারে। আবার যাদের ব্যথা অনের পুরানো তাদের চিকিৎসা করার সময়ও ব্যথা লাগতে পারে। আবার অনেকে মনে করে যে এই চিকিৎসা জীবনে একবার নিলেই ভালো হয়ে যাবে। এটিও মূলত ভুল ধারণা কারণ এই চিকিৎসা সাধারণ বিভিন্ন ধাপে ধাপে করা হয় যাকে সেশন বলা হয়। রোগের ধরণ অনুযায়ী অনেক কয়েকটা সেশনে এই চিকিৎসাটি নেওয়া লাগতে পারে।

ক্রাইরোপ্যাকটিক চিকিৎসা নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্নঃ  ক্রাইরোপ্যাকটিক চিকিৎসা কি?
উত্তরঃ ক্রাইরোপ্যাকটিক চিকিৎসা হলো এমন একটি চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে ওষুধ ও অস্ত্রপাচার ছাড়া সম্পূর্ন প্রাকৃতিক ভাবে মেরুদণ্ড ও স্নায়ুতন্ত্রের ভারসাম্য জনিত সমস্যা গুলো সমাধান করার জন্য মেরুদণ্ড ও জয়েন্টের হালকা চাপ প্রয়োগ করে ব্যথা ও অস্বস্তি উপশম করা হয়।

প্রশ্নঃ কোন কোন সমস্যায় ক্রাইরোপ্যাকটিক চিকিৎসা করা হয়?
উত্তরঃ ক্রাইরোপ্যাকটিক চিকিৎসা সাধারণত পিঠ ও কোমরের ব্যথা, ঘাড়ের ব্যথা, মাথাব্যথা ও মাইগ্রেন, মেরুদণ্ডের ডিস্ক সমস্যা, স্পোর্টস ইনজুরি ইত্যাদির মত ব্যথা জনিত সমস্যার জন্য এই চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়ে থাকে।

প্রশ্নঃ ক্রাইরোপ্যাকটিক চিকিৎসা কি নিরাপদ?
উত্তরঃ সাধারণত প্রশিক্ষিত ও লাইসেন্সধারী চিরোপ্র্যাকটরের মাধ্যমে ক্রাইরোপ্যাকটিক চিকিৎসা নিরাপদ। তবে যাদের অতিরিক্ত ব্যথা রয়েছে তারা চিকিৎসা নেওয়ার আগে চিকিৎসকের সাথে ভালো ভাবে পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

প্রশ্নঃ ক্রাইরোপ্যাকটিক চিকিৎসা কিভাবে কাজ করে?
উত্তরঃ ক্রাইরোপ্যাকটিক চিকিৎসায় মেরুদণ্ড ও জয়েন্টের নির্দিষ্ট স্থানে হালকা চাপ প্রয়োগ করে সেগুলোর সঠিক অবস্থান পুনঃস্থাপন করা হয়। ঠিক এই ভাবে বিভিন্ন ব্যথা জনিত সমস্যার ওষুধ ও অস্ত্রপাচার ছাড়াই চিকিৎসা করা হয়ে থাকে।
প্রশ্নঃ ক্রাইরোপ্যাকটিক চিকিৎসার সময় কি ব্যথা লাগে?
উত্তরঃ ক্রাইরোপ্যাকটিক চিকিৎসার সময় সাধারণত ব্যথা অনুভব হয় না। তবে কিছু ক্ষেত্রে হালকা অস্বস্তি বা ব্যথা অনুভূত হতে পারে যা সাধারণত অস্থায়ী।

প্রশ্নঃ ক্রাইরোপ্যাকটিক চিকিৎসা কতবার নিলে সম্পূর্ন সুস্থ হয়?
উত্তরঃ ক্রাইরোপ্যাকটিক চিকিৎসা কতবার নিলে সম্পূর্ন সুস্থ হয় এটি সম্পূর্ন নির্ভর করে ব্যক্তির সমস্যা, বয়স, ও শরীরের অবস্থার উপর। যাদের অপেক্ষাকৃত কম সমস্যা তাদের সাধারণত কয়েকটি সেশনে বা ধাপে চিকিৎসা গ্রহণ করলেই সুস্থতা লাভ করা যায় আবার যাদের সমস্যা অনেক দিনের তাদের সুস্থ হতে অনেক দিন লাগতে পারে।

প্রশ্নঃ ক্রাইরোপ্যাকটিক চিকিৎসা গ্রহণের পর কি করা উচিত?
উত্তরঃ চিকিৎসার পর পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া, হালকা ব্যায়াম করা, ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরবর্তী সেশন গ্রহণ করা উচিত। এছাড়াও থেরাপিস্টের দেওয়া পরামর্শ মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।

প্রশ্নঃ সব বয়সের মানুষ কি এই চিকিৎসা নিতে পারে?
উত্তরঃ শিশু থেকে বৃদ্ধ প্রায় সকল বয়সের মানুষ এই চিকিৎসা নিতে পারে। তবে বয়স ও শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে চিকিৎসার ধরন ও পদ্ধতি পরিবর্তিত হতে পারে।

প্রশ্নঃ ক্রাইরোপ্যাকটিক চিকিৎসার কি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে?
উত্তরঃ  ক্রাইরোপ্যাকটিক চিকিৎসায় গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে চিকিৎসার পর হালকা ব্যথা, ক্লান্তি, বা অস্থায়ী অস্বস্তি হতে পারে, যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেরে যায়।

প্রশ্নঃ ক্রাইরোপ্যাকটিক চিকিৎসা ও ফিজিওথেরাপির মধ্যে পার্থক্য কি?
উত্তরঃ ক্রাইরোপ্যাকটিক চিকিৎসা সাধারণত মেরুদণ্ড ও স্নায়ুতন্ত্রের ভারসাম্য ঠিক করতে করা হয়ে থাকে অপর দিকে ফিজিওথেরাপি বিভিন্ন ব্যায়াম, স্ট্রেচিং, ও অন্যান্য পদ্ধতির মাধ্যমে পেশি ও জয়েন্টের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে থাকে। আমরা এই বিষয়ে উপরে বিস্তারিত আলোচনা করেছি আপনি চাইলে সেগুলো পড়ে আসতে পারেন।

পরিশেষেঃ ক্রাইরোপ্যাকটিক অ্যাডজাস্টমেন্ট রাজশাহীতেঃ ব্যথা ও মেরুদণ্ডের সমস্যায় নতুন সমাধান

ক্রাইরোপ্যাকটিক অ্যাডজাস্টমেন্ট রাজশাহীতেঃ ব্যথা ও মেরুদণ্ডের সমস্যায় নতুন সমাধান এই চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে উপরে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। বর্তমান সময়ে অনেকে ঘাড়, পিঠ, কোমর ব্যথার মত রোগের জন্য ওষুধ খেতে বা অস্ত্রপাচার করতে ভয় করে থাকেন। তাদের জন্য সেরা চিকিৎসা পদ্ধতি হতে পারে ক্রাইরোপ্যাকটিক অ্যাডজাস্টমেন্ট চিকিৎসা পদ্ধতি। এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে ওষুধ বা অস্ত্রপাচার ছাড়াই চিকিৎসা প্রদান করে ব্যথা নিরাময় করা হয়। আমরা এই সকল বিষয়ে উপরে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমরা উপরে আরোও ক্রাইরোপ্যাকটিক অ্যাডজাস্টমেন্ট নিয়ে মানুষের মাঝে কিছু ভুল ধারনা ও প্রশ্নের উত্তর তুলে ধরেছি। তাই আশা করা যায় যে উপরে তথ্য গুলো ভালো করে পড়লে ক্রাইরোপ্যাকটিক অ্যাডজাস্টমেন্ট রাজশাহীতেঃ ব্যথা ও মেরুদণ্ডের সমস্যায় নতুন সমাধান নিয়ে সকল প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।  250311

0 Comments