রাজশাহীতে মেডিকেল ওজোন থেরাপিঃ কোথায় করানো যায়, কাদের জন্য উপযোগী? এই বিষয় নিয়ে আজকে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করবো। অস্ত্রপাচার ছাড়া বর্তমানে যে চিকিৎসা পদ্ধতি সবচেয়ে জনপ্রিয় সেটি হচ্ছে মেডিকেল ওজোন থেরাপি।
ওজোন থেরাপিতে সাধারণত বায়ুমন্ডলের ওজোন স্তরের গ্যাস অক্সিজেনের সাথে মিশ্রন করে শরীরে প্রবেশ করিয়ে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করা হয়ে থাকে। তাই এই চিকিৎসা রাজশাহী শহরে কোথায় করানো হয় ও কাদের জন্য উপযোগী এটি জানা জরুরী।
রাজশাহীতে মেডিকেল ওজোন থেরাপিঃ কোথায় করানো যায়, কাদের জন্য উপযোগী?
- রাজশাহীতে মেডিকেল ওজোন থেরাপিঃ কোথায় করানো যায়, কাদের জন্য উপযোগী?
- মেডিকেল ওজোন থেরাপি কি ও কিভাবে করা হয়
- কোন কোন রোগের জন্য ওজোন থেরাপি করা হয়
- রাজশাহীতে ওজোন থেরাপি করতে কত টাকা লাগে?
- ওজোন থেরাপি নেওয়ার আগে যেসকল বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে
- ফিজিওথেরাপি নাকি ওজোন থেরাপি কোনটি ভালো?
- ওজোন থেরাপি করতে কি ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া লাগে?
- ওজোন থেরাপি চিকিৎসা নিয়ে সাধারণ কিছু ভুল ধারণা
- ওজোন থেরাপি নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
- পরিশেষেঃ রাজশাহীতে মেডিকেল ওজোন থেরাপিঃ কোথায় করানো যায়, কাদের জন্য উপযোগী?
রাজশাহীতে মেডিকেল ওজোন থেরাপিঃ কোথায় করানো যায়, কাদের জন্য উপযোগী?
রাজশাহীতে মেডিকেল ওজোন থেরাপিঃ কোথায় করানো যায়, কাদের জন্য উপযোগী? এই বিষয় নিয়ে আজকে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। ওজোন থেরাপি হলো একটি আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে একজন রোগীর শরীরে ওজন গ্যাস প্রবেশ করিয়ে শরীরের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করা হয়। এই চিকিৎসা পদ্ধতিকে অস্ত্রপাচারের বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবেও ধরা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশ গুলোতে এই চিকিৎসা পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয় হলেও বাংলাদেশে এটির প্রচলন খুব একটা দেখা যায় না। বাংলাদেশে এর আগে ওজোন গ্যাস চিকিৎসা নেওয়ার জন্য ঢাকার মত বড় শহর গুলোতে যাওয়া লাগলেও বর্তমানে রাজশাহী শহরে এই চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন। এখন আমরা জানবো কাদের জন্য ওজোন থেরাপি উপযোগী।
যারা দীর্ঘমেয়াদী ব্যথায় ভুগছেন যেমনঃ হাঁটুর ব্যথা, কোমর ব্যথা, ঘাড়ের ব্যথা, মাইগ্রেন, টেনিস এলবো, ফ্রোজেন শোল্ডার, নার্ভের ব্যথা ইত্যাদি ব্যাথায় দীর্ঘ দিন ধরে ভুগছেন তাদের জন্য ওজোন থেরাপি হতে পারে খুবই উপযোগী একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। আবার যারা সার্জারি ছাড়া বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করতে চান তাদের জন্য ওজোন থেরাপি উপযোগী একটি চিকিৎসা পদ্ধতি হতে পারে। এটি বিশেষ করে ব্যথা কমানোর চিকিৎসা নামে পরিচিত হলেও এই চিকিৎসা পদ্ধতি মূলত বিভিন্ন রোগ সারানোর জন্য খুবই কার্যকরী একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। এখন আমরা রাজশাহীর কোথায় কোথায় আপনি ওজোন থেরাপি করতে পারবেন এই সম্পর্কে জানবো।
- রাজশাহী ওজোন সেন্টারঃ রাজশাহী শহরের জনপ্রিয় একটি ওজোন থেরাপি সেন্টার হচ্ছে রাজশাহী ওজোন সেন্টার। এই প্রতিষ্ঠানটি শুধু ওজোন থেরাপির জন্যই জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এখানে হাটু ব্যথা, কোমর ব্যথা ও ডিস্ক সমস্যা, ফ্রোজেন শোল্ডার, টেনিস এলবো, PRP ও মেসোথেরাপি ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা ওজোন থেরাপির মাধ্যমে করে থাকে। এখানে ওজোন ইনজেকশন ও ব্যথামুক্ত চিকিৎসার জন্য অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
- পেইন এইড সেন্টার, রাজশাহীঃ পেইন এইড সেন্টার হচ্ছে রাজশাহী শহরে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় ওজোন থেরাপি সেন্টার। এখানে শুধু ওজোন থেরাপি দেওয়া হয় না বরং ওজোন থেরাপির পাশাপাশি USG গাইডেড ইন্ট্রাআর্টিকুলার ইন্টারভেনশন চিকিৎসাও করা হয়ে থাকে। এখানে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যথা কমানোর জন্য ওজোন থেরাপি প্রদান করা হয়। এখানে ইন্টারভেশনাল পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ ব্যথামুক্ত নরমাল ডেলিভারি, কোমরের ব্যথা, ঘাড়ের ও পিঠের ব্যথা সহ শরীরের বিভিন্ন ব্যথার চিকিৎসা করা হয়ে থাকে।
- এফএমসি পেইন এন্ড স্পাইন সেন্টারঃ এফএমসি পেইন এন্ড স্পাইন সেন্টার মূলত একটি অত্যাধুনিক ওজোন থেরাপি সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান। এরা অনেক আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা প্রদান করলেও স্থায়ীভাবে রাজশাহীতে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন না বরং অনেক সময় অস্থায়ীভাবে ওজোন থেরাপি ক্যাম্প আয়োজন করে সেখানে চিকিৎসা প্রদান করে থাকে।
- রিসার্চ ইনস্টিটিউট অফ ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশনঃ রাজশাহী শহরের জনপ্রিয় ও বিশ্বাসযোগ্য একটি ফিজিওথেরাপির প্রতিষ্ঠান হচ্ছে রিসার্চ ইনস্টিটিউট অফ ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার। এখানে ফিজিওথেরাপির পাশাপাশি ওজোন থেরাপির চিকিৎসাও প্রদান করা হয়ে থাকে। এখানে উন্নত চিকিৎসা যন্ত্রপাতির সাহায্যে ব্যথামুক্ত ভাবে শরীরে ওজোন গ্যাস প্রদান করা হয়। আপনি যদি ফিজিওথেরাপির পাশাপাশি ওজোন থেরাপিও এক সাথে নিতে চান তাহলে এই প্রতিষ্ঠানটি আপনার জন্য ভালো হতে পারে।
মেডিকেল ওজোন থেরাপি কি ও কিভাবে করা হয়
মেডিকেল ওজোন থেরাপি হলো একটি আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে শরীরের ব্যথা ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য শরীরে অক্সিজেন ও ওজোন গ্যাসের মিশ্রণ করে প্রবেশ করানো হয়। মূলত শরীরের ভেতর এই অক্সিজেন ও ওজোন গ্যাসের মিশ্রণ প্রবেশ করানোর ফলে শরীরে থাকা মৃত কোষ গুলো আবার জীবিত করতে সাহায্য করে থাকে। এই ওজোন গ্যাসটি হলো মূলত তিনটি অক্সিজেন পরমাণুর একটি যোগ যা সরাসরি নিশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে নিলে ক্ষতিকর হলেও চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে এটি গ্রহণ করলে শরীরের জীবাণু ধ্বংস, কোষ পুনর্জীবন ও রক্তে অক্সিজেন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
সাধারণত মেডিকেল ওজোন থেরাপি রোগের লক্ষণ ও ধরনের উপর নির্ভর করে বিভিন্ন ভাবে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলো রক্ত মিশ্রণ পদ্ধতি যাকে মেডিকেলের ভাষায় বলা হয় Major Autohemotherapy এই পদ্ধতিতে রোগীর শরীর থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ রক্ত বের করে নিয়ে সেখানে ওজোন গ্যাস মিশ্রণ করে আবার সেই রক্ত রোগীর শরীরে প্রবেশ করানো হয়। আবার হাঁটু বা কোমরের ব্যথার জন্য জয়েন্টে ইনজেকশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতিতে মূলত ওজোন গ্যাস সরাসরি ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রবেশ করানো হয়। এছাড়াও রোগের ধরনের উপর ভিত্তি করে ডাক্তার আরোও নানান পদ্ধতিতে ওজোন গ্যাস শরীরে প্রবেশ করিয়ে থাকেন।
কোন কোন রোগের জন্য ওজোন থেরাপি করা হয়
অনেকে মনে করেন যে ওজোন থেরাপি শুধু মাত্র ব্যথা কমানোর জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আসলে এই ধারনাটি সম্পূর্ন ভুল। কেননা ওজোন থেরাপি শুধু ব্যথায় জন্য ব্যবহার করা হয়না বরং আরোও জটিল রোগের চিকিৎসার জন্যও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তাই এখন আমরা জানবো ওজোন থেরাপি কোন কোন রোগের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
- হাঁটু ও জয়েন্ট ব্যথা
- স্লিপড ডিস্ক বা ডিস্ক প্রল্যাপ্স
- সায়াটিকা ও কোমর ব্যথা
- ডায়াবেটিক ফুট আলসার ও দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত
- পায়ের পচন ও ইনফেকশন
- একজিমা ও চর্মরোগ
- গ্যাস্ট্রিক ও অন্ত্রের সংক্রমণ
- পাইলস, ফিস্টুলা ও ফিশার
- হেপাটাইটিস B ও C
- হার্পিস ও ভাইরাল ইনফেকশন
- ক্রনিক ফ্যাটিগ সিনড্রোম
- অনিয়মিত মাসিক ও স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত সমস্যা
- ডিপ্রেশন ও ঘন ঘন মাথাব্যথা
- ফ্রোজেন শোল্ডার
- নার্ভজনিত ব্যথা
- ইমিউন সিস্টেম দুর্বলতা
- ইনফারটিলিটি বা বন্ধ্যত্ব
- পোস্ট-কোভিড দুর্বলতা
- হাঁপানি ও শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি।
রাজশাহীতে ওজোন থেরাপি করতে কত টাকা লাগে?
ওজোন থেরাপির সাধারণত অনেক গুলো ধরণ থাকে। রোগের লক্ষন ও ধরণ অনুযায়ী ওজোন থেরাপিও আলাদা আলাদা হয়ে থাকে। সেই সাথে এই থেরাপি গুলো একেক জায়গায় একেক রকম টাকা লাগতে পারে। এখন আমরা রাজশাহীতে ওজোন থেরাপি করতে কত টাকা লাগে তার সম্ভাব্য দাম গুলো সম্পর্কে জানবো।
| ওজোন থেরাপির ধরন | খরচ (প্রতি সেশন) |
|---|---|
| মেজর অটোহেমোথেরাপি | ৪০০০-৮০০০ টাকা |
| মাইনর অটোহেমোথেরাপি | ২০০০-৪০০০ টাকা |
| রেকটাল ইনসাফ্লেশন | ১৫০০-৩০০০ টাকা |
| ওজোন ইনজেকশন | ৩০০০-৬০০০ টাকা |
| জয়েন্ট ইনজেকশন | ২৫০০-৫০০০ টাকা |
| ওজোন ব্যাগিং | ১৫০০-৩০০০ টাকা |
| নওজোনেটেড অয়েল থেরাপি | ৫০০-১৫০০ টাকা |
ওজোন থেরাপি নেওয়ার আগে যেসকল বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে
ওজোন থেরাপি নেওয়ার আগে অনেক গুলো বিষয় লক্ষ্য রাখতে হয়। তার মধ্যে সব চেয়ে প্রয়োজনীয় যে বিষয়টি সেটি হচ্ছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। আপনার রোগের ধরণ অথবা লক্ষন অনুযায়ী সবার আগে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সময় আবার কিছু দিক লক্ষ্য রাখতে হবে। সেগুলো হচ্ছে ডাক্তারের কাছে আপনার রোগের সকল কিছুই খুলাখুলি ভাবে বলতে হবে এক কথায় কোন তথ্য লুকানো যাবে না। কেননা আপনার রোগ হয়েছে এক রকম আর আপনি যদি ডাক্তারকে আরেক রকম ভাবে বলেন তাহলে ডাক্তার সেই রোগের ধরণ অনুযায়ী আপনাকে চিকিৎসা পরামর্শ দিতে পারে যার ফলে আপনার সমস্যার সমাধান না হয়ে আরোও জটিল রুপ ধারন করতে পারে।
এছাড়াও আপনাকে যে দিকটি লক্ষ্য রাখতে হবে সেটি হলো থেরাপির আগে অবশ্যই রক্তচাপ, হিমোগ্লোবিন, লিভার ও কিডনি ফাংশন, সুগার লেভেল ইত্যাদি পরীক্ষা করে নিতে হবে। আপনি যদি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিতে যান তাহলে তারা নিজে থেকেই এই সকল পরিক্ষা করে নেওয়ার জন্য সাজেশন দিয়ে থাকে আবার আপনি যদি টাকা বাঁচানোর জন্য অপেক্ষাকৃত কম অভিজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যান তাহলে এই সকল পরিক্ষা নাও করতে বলতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনাকে নিজ দায়িত্বে এই পরিক্ষা গুলো করে নেওয়া উচিত কেননা ওজোন থেরাপির পর আপনার শরীরে কতটা উন্নতি হয়েছে সেটি খুব সহজে বুঝতে পারবেন।
ফিজিওথেরাপি নাকি ওজোন থেরাপি কোনটি ভালো?
ফিজিওথেরাপি এবং ওজোন থেরাপি এই দুইটি চিকিৎসা পদ্ধতি মূলত ব্যথা ও হাড় জয়েন্টের সমস্যার জন্য কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত। তবে ফিজিওথেরাপি এবং ওজোন থেরাপি এই দুইটি চিকিৎসা পদ্ধতির চিকিৎসা করার ধরণ সম্পুর্ন ভিন্ন। ফিজিওথেরাপিকে মূলত এক ধরনের ম্যানুয়াল থেরাপি বলা হয়ে থাকে। কারণ এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা যেমন শরীরে ব্যথা, হাড়ের জয়েন্টের সমস্যা, আঘাত, দূর্ঘটনার পরবর্তি পূর্বাসন ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা ঔষুধ ও অস্ত্রপাচার ছাড়াই বিভিন্ন ব্যায়াম, শরীর চর্চা ও উন্নত যন্ত্রপাতির সাহায্যে চিকিৎসা করা হয়ে থাকে।
আরোও পড়ুনঃ দ্রুত হজম শক্তি বাড়ানোর ৫টি কার্যকর উপায়
অপর দিকে ওজোন থেরাপিকে বলা হয়ে থাকে আধুনিক ও অস্ত্রপাচারের বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি। ওজোন থেরাপি করার জন্য বায়ুমন্ডলের ওজোন স্তরের গ্যাস অক্সিজেন গ্যাসে সাথে মিশ্রণ করে রোগীর শরীরে প্রবেশ করানো হয়ে থাকে। এর ফলে শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ বেড়ে যায় এবং শরীরে থাকা মৃত কোষ গুলো আবার জীবিত হওয়া শুরু করে। এই চিকিৎসা পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরে নেওয়া লাগতে পারে। তবে এটি সম্পূর্ন নির্ভর করবে আপনার রোগের ধরণ ও কত দিন ধরে উক্ত রোগে আক্রান্ত আছের এর উপর। এখন ফিজিওথেরাপি নাকি ওজোন থেরাপি কোনটি ভালো এই প্রশ্নের উত্তর এক কথায় বলতে গেলে বলা যায় যে উপরের দুই চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পূর্ন আলাদা। তাই আপনার রোগের ধরণ অনুযায়ী নির্ভর করবে যে কোনতি আপনার জন্য ভালো হবে।
ওজোন থেরাপি করতে কি ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া লাগে?
সাধারণত ওজোন থেরাপি করতে ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া লাগে না। কারণ ওজোন থেরাপি করাই হয় মূলত ব্যথা কমানোর জন্য। তবে প্রথমবার ওজোন থেরাপি করার পর ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া লাগতেও পারে তবে সেক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে তারপর খেতে হবে। অনেক সময় ডাক্তার আপনাকে ব্যথানাশন ওষুধ খেয়ে নিষেধ করতে পারে এবং আপনি বাসায় এসে অস্বাভাবিক বা অস্বস্তি অনুভব করলে সাথে সাথে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে পরামর্শ নিতে হবে। যদিও ওজোন থেরাপি করতে বা করার পর ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া লাগে না তবুও কিছু কারণে ডাক্তার আপনাকে ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন। কারণ গুলো হলোঃ
- থেরাপির শুরুর দিকে যদি ব্যথা বেশি হয়।
- ইনজেকশনের পরে হালকা অস্বস্তি হলে।
- রোগীর পূর্বে দীর্ঘদিন ব্যথানাশক খাওয়ার অভ্যাস থাকলে।
- থেরাপির পর শরীরের প্রতিক্রিয়ায় সাময়িক ব্যথা দেখা দিলে।
- স্লিপড ডিস্ক বা নার্ভের ব্যথা অত্যন্ত তীব্র হলে ইত্যাদি।
ওজোন থেরাপি চিকিৎসা নিয়ে সাধারণ কিছু ভুল ধারণা
ওজোন থেরাপি চিকিৎসা পদ্ধতি বাংলাদেশের মানুষের মাঝে খুব বেশি প্রচলিত না থাকার কারণে এই চিকিৎসা পদ্ধতিকে নিয়ে অনেকের অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। আজকে আমরা সেই ভুল ধারণা গুলো সংক্ষেপে জানার চেষ্টা করবো। প্রথমত যে ভুল ধারণাটি রয়েছে সেটি হচ্ছে ওজোন গ্যাস শরীরের জন্য ক্ষতিকর এই ধারণাটি। ওজোন গ্যাস বায়ুমণ্ডলের উচ্চ স্তরে অতিবেগুনি রশ্মি শোষণকারী গ্যাস হিসেবে পরিচিত যা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে বেশি গ্রহণ করলে ক্ষতিকর হতে পারে। তবে এই চিকিৎসা ক্ষেত্রে ওজোন গ্যাস পরিমিত মাত্রায় ও নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে প্রয়োগ করা হয়। আর এই ওজোন গ্যাস সাধারণ ওজোন গ্যাস নয় বরং মেডিকেল গ্রেড ওজোন গ্যাস। তাই শরীরের ক্ষতি না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
এছাড়াও অনেকে মনে করেন এটি কোনো চিকিৎসা পদ্ধতিই নয়। এটিও আসলে একটি ভুল ধারণা কেননা ওজোন থেরাপি নিয়ে বিশ্বের অনেক দেশ অনেক আগে থেকেই গবেষণা করেছে এবং এই পদ্ধতিকে আরোও উন্নত করার জন্য গবেষণা করছে। ইউরোপ, চীন, কিউবা ও জার্মানি সহ অনেক দেশেই এটি স্বীকৃত সাপোর্টিভ থেরাপি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আবার অনেকে মনে করেন এই চিকিৎসা পদ্ধতি অনেক ব্যয় বহুল। আসলে এটিও একটি ভুল ধারণা। কেননা অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির খরচ অনুযায়ী এটি খুব একটা ব্যয় বহুল চিকিৎসা পদ্ধতি নয়। কারণ ওজোন থেরাপি সাধারণত সেশন অনুযায়ী বা ধাপে ধাপে চিকিৎসা করা হয় আর প্রতিটি সেশনের জন্য রাজশাহী শহরে মাত্র ১৫০০ টাকা থেকে ৩৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।
ওজোন থেরাপি নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্নঃ ওজোন থেরাপি কি?
উত্তরঃ ওজোন থেরাপি হচ্ছে একটি আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে ওজোন গ্যাস শরীরে প্রয়োগ করে ব্যথা, প্রদাহ, সংক্রমণ ও কোষের ক্ষয় সারানো হয়ে থাকে।
প্রশ্নঃ ওজোন থেরাপি কোন ধরনের রোগে ব্যবহার করা হয়?
উত্তরঃ ওজোন থেরাপি হাঁটুর ব্যথা, কোমরের ব্যথা, ডিস্ক প্রোল্যাপ্স, আর্থ্রাইটিস, সাইনাস, অনিদ্রা, ত্বকের সমস্যা ইত্যাদি ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা হয়।
প্রশ্নঃ ওজোন থেরাপি করতে কি ব্যথা লাগে?
উত্তরঃ সাধারণত ওজোন থেরাপি করতে ব্যথা লাগে না। তবে কিছুক্ষেত্রে অস্বস্তিকর অনুভব হতে পারে ।
প্রশ্নঃ এই চিকিৎসা পদ্ধতি কি নিরাপদ?
উত্তরঃ যদি অভিজ্ঞ চিকিৎসকের মধ্যমে সঠিক ডোজ ও নিয়ম মেনে চিকিৎসা করা হয় তাহলে এটি নিরাপদ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম হয়ে থাকে।
প্রশ্নঃ ওজোন থেরাপির খরচ কত টাকা লাগতে পারে?
উত্তরঃ প্রতিটি সেশনের খরচ রাজশাহীতে সাধারণত ১৫০০ থেকে ৩৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে তবে সেন্টার ও চিকিৎসার ধরন অনুযায়ী এই টাকার পরিমাণ কম অথবা বেশি হতে পারে।
প্রশ্নঃ ওজোন থেরাপির পর কি ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে?
উত্তরঃ ওজোন থেরাপির পর সাধারণত খুব কম ক্ষেত্রে হালকা ব্যথা, র্যাশ বা অস্থায়ী অস্বস্তি হতে পারে। তবে বড় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা সাধারণত নেই।
প্রশ্নঃ ওজোন থেরাপি করতে কত সময় লাগে?
উত্তরঃ ওজোন থেরাপি করতে সাধারণত প্রতিটি সেশনে ৩০ থেকে ১ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
প্রশ্নঃ কত বছর বয়স থেকে ওজোন থেরাপি নেওয়া যায়?
উত্তরঃ সাধারণত ১৮ বছর বয়সের উপরে যে কেউ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওজোন থেরাপি নিতে পারেন।
প্রশ্নঃ ওজোন থেরাপি নেওয়ার সময় কি খালি পেটে থাকতে হয়?
উত্তরঃ সাধারণত ওজোন থেরাপি নেওয়ার সময় খালি পেটে থাকার প্রয়োজন পড়ে না। তবে থেরাপিটি নেওয়ার আগে হালকা খাবার খাওয়া ভালো।
প্রশ্নঃ ওজোন থেরাপি কি সরকারি হাসপাতালে পাওয়া যায়?
উত্তরঃ এখন পর্যন্ত রাজশাহীতে অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালে ওজোন থেরাপি চালু হয়নি। তবে কিছু বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ওজোন থেরাপি দেওয়া হচ্ছে।
পরিশেষেঃ রাজশাহীতে মেডিকেল ওজোন থেরাপিঃ কোথায় করানো যায়, কাদের জন্য উপযোগী?
রাজশাহীতে মেডিকেল ওজোন থেরাপিঃ কোথায় করানো যায়, কাদের জন্য উপযোগী? এই বিষয়ে আমরা উপরে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। ওজোন থেরাপি হচ্ছে বর্তমান সময়ের একটি আধুনিক ও অস্ত্রপাচারের বিকল্প একটি চিকিৎসা পদ্ধতি যা বিভিন্ন ধরনের ব্যথা, প্রদাহ ও সংক্রমণ কমাতে এবং কোষ পুনর্জীবিত করতে ব্যবহার করা হয়। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে এই চিকিৎসা পদ্ধতির ব্যাপক চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশের মানুষজন এই চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে অনেক কম জানে।
ঠিক এই কারণে রাজশাহী শহরে কোথায় ওজোন থেরাপি করা যায় এই সম্পর্কে আলোচনা সহ কাদের জন্য এই চিকিৎসা পদ্ধতি উপযোগী এই বিষয়ে উপরে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এবং এর সাথে ওজোন থেরাপি নিয়ে কিছু ভুল ধারণা নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। তাই আশা করা যায় যে উপরের লিখাগুলো থেকে রাজশাহীতে মেডিকেল ওজোন থেরাপিঃ কোথায় করানো যায়, কাদের জন্য উপযোগী? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর পেয়ে যাবেন। 250311



0 Comments